প্যারাসাইট কোরিয়ান মুভি রিভিউ

Disclosure: This content is reader-supported, which means that if you click on some of our links. then we may earn a commission

Parasite Korean Movie Review in Bangla

আজকের রিভিউ কোরিয়ান ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘Parasite’ নিয়ে । ২০১৮ সালে ‘ভেনম মুভি’ রিলিজ হওয়ার পরে, এডি ব্রক ওরফে ভেনমের মুখে প্যারাসাইট! ডায়লগটি শুনতে আসলে খুবই ভালো লাগত । গতবছর ডিরেক্টর বং জু হোর ডিরেক্ট করা, প্যারাসাইট সিনেমাটি মুক্তির পরেই পুরো বিশ্বে হইচই ফেলে দেয় । যার ফল শ্রুতিতে মাত্র ১১ মিলিয়ন ইউএসডির বিনিময়ে তৈরি এই সিনেমাটি ইতোমধ্যে আয় করে ফেলেছে ১৬৭.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার । যা দক্ষিন কোরিয়ান চলচ্চিত্র হিসেবে ৩য় সর্বোচ্চ।

parasite-movie-basement-scene-poster
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 


সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে আছেন 'Memories of Murder' ও 'Taxi Driver' খ্যাত অভিনেতা 'সং কাং হো' । অনায়াসেই যাকে কোরিয়ার সেরা দশজন অভিনেতার মধ্যে একজন বলা যায়। প্যারাসাইট এর অর্থ হলো পরজীবী । “যে সকল জীব অন্য জীবের উপর নির্ভরশীল তাদের কে প্যারাসাইট বা পরজীবী বলা হয়।” এই সিনেমা আসলে একটি ধাধার মতো। এই সিনেমায় একটি প্রশ্ন রেখে যায়! কে আসলে প্যারাসাইট, উচ্চবিত্ত না নিম্নবিত্ত পরিবার ? এর উত্তর জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই ২০২০ এর অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড উইনার্স ‘প্যারাসাইট’ সিনেমা দেখতে হবে ।

প্যারাসাইট মুভি প্রিমিয়ার এবং মুক্তির দিন


২০১৯ সালের এই মুভি যা কিনা ৮টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে অস্কারের জন্য মনোনীত হয়। একটা মুভি ৮টি ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়ে ৪টি অস্কার জিতে নেয়া মানে বিরাট কিছু । অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলিতে প্যারাসাইটের জয়জয়কার দেখে মুভিটি দেখে এর রিভিউ না লিখে পারলাম না । ‘প্যারাসাইট মুভি’টি Cannes ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আন্তর্জাতিকভাবে প্রথম প্রদর্শিত হয় এবং জিতে নেয় 'PALME D'OR' পদকটি যা কিনা কান এর মোস্ট প্রেস্টিজিয়াস বা সম্মানজনক এওয়ার্ড বলে গণ্য।

parasite-movie-kim-family-living-on-basement
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 

পুরো বিশ্বেই বর্তমানে কোরিয়ান মুভির কদর বেশি । বিশেষ করে কোরিয়ানদের সিনেমার গল্প আবহ কিংবা অভিনয় সবই অসাধারণ । অন্যদিকে একের পর এক ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়ে বিশ্ব কাপিয়ে বাঘা বাঘা সকল আওয়ার্ড হাতিয়ে নিচ্ছে তারা । যার উদাহরণ হিসেবে প্যারাসাইটের কথা বলতে বাধ্য । ৯২তম একাডেমী আওয়ার্ডে ডিসি এর জোকার সিনেমা কে ছাড়িয়ে বেস্ট পিকচার ক্যাটেগরিতে জয় পেয়ে যায় প্যারাসাইট সিনেমাটি । এবার দেখার পালা কোরিয়ানরা নিজেদের এই ধারা এই বছরও চালিয়ে যেতে পারে কিনা । এই বছর কোরিয়ানদের ভরসা ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুপারহিট সিনেমা ট্রেন টু বুসান ২ : পেনিনসুলা মুভিটি । আগামী মাসে Train To Busan: Peninsula এর Trailer মুক্তি পাবে ।


parasite-movie-da-sang-party-scene
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 


Parasite (2019) Movie Review


'Parasite' ২০১৯ এর কোরিয়ান ডার্ক কমেডি/মিস্ট্রি /ড্রামা সিনেমা। কোরিয়ান ফিল্ম যারা দেখে থাকেন 'Memories of Murder' কিংবা 'Mother' দেখেননি এমন দর্শক খুব কমই পাওয়া যাবে। এই সকল মুভির পিছনে আছে জাদুকরী ডিরেক্টর ‘বং জু হো’র ডিরেকশন দেয়া এই ফিল্মগুলো প্রায় সকল দেশের মুভি খোরদের পছন্দের লিস্টে অনেক উপরে থাকে । ‘বং জু হো’র নতুন সৃষ্টি এই প্যারাসাইট ফিল্মটি।

কাল মার্কসের মতে, ‘দাস সমাজ থেকেই আসলে শ্রেণিভিত্তিক সমাজের শুরু।’ এরপর ক্রমান্বয়ে সামন্ত সমাজ থেকে পুঁজিবাদী সমাজে শ্রেণিবৈষম্য কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে।

movie review bangla

ক্যাপিটালিজম আর আধুনিক ইকোনমিকস এর মারপ্যাঁচের ফলশ্রুতিতে কবি শেলির সেই বিখ্যাত উক্তিই যেন বার বার সত্যতা দেখিয়ে যাচ্ছে, 'The rich get richer and the poor get poorer' মুভিটিতে দুটি পরিবারের অবস্থা দেখিয়ে আসলে পুরো পৃথিবীর অসামঞ্জস্যতাকেই দেখানো হয়েছে।

parasite-movie-kim-family-smell-same
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 

পিতা কি-তাক, তার স্ত্রী চুং-সুক, ছেলে কি-উ ও মেয়ে কি-জোং কে নিয়ে গঠিত নিম্নবিত্ত কিম পরিবার। যাদের বসবাস মাটির নিচে অর্থাৎ সেমি-বেজমেন্টে এপার্টমেন্টে । যেখানে মদ খেয়ে মাতাল রা এসে জানলার ধারে প্রস্রাব করে, কিংবা কিছুটা বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় পুরো বাসা। যদিও এই চারজনই শারীরিক ভাবে কর্মক্ষম তাও সামগ্রিকভাবে বলা চলে তারা বেকার।

হঠাৎই ‘কি-উ’ কে তার এক বন্ধু বিশাল ধনী এক পরিবারের মেয়ের টিউটরের চাকরি যোগাড় করে দেয়।

parasite-movie-da-sang-park-going-upstairs-scene
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 
আর সেই পরিবারটি হচ্ছে পার্ক পরিবার৷ পিতা পার্ক ডং-ইক, তার স্ত্রী পার্ক ইওন-জিও, মেয়ে দা-হিয়ে ও ছেলে দা-সং কে নিয়ে গঠিত উচ্চবিত্ত পার্ক পরিবার। যারা সবুজে ঘেরা আলিশান এক বাড়ীতে বাস করে। পার্ক পরিবারের পিতা মি: পার্ক এক আইটি ফার্মের মালিক । অন্যদিকে গৃহিনী মিসেস পার্ক সার্বক্ষণিকই সাথে কেয়ার টেকার গোয়াং কে রাখেন । তাদের একমাত্র পুত্র দা-সং অজ্ঞাত এক অসুখে ভিন্ন এক ফ্যান্টাসি তে থাকে।

parasite-mr-park-new-gift-for-da-sang-park
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 

গরিব কিম পরিবারের পুত্র ‘কি-উ’, উচ্চবিত্ত পার্ক পরিবারের মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানোর চাকরী তো পায়ই । সেই সাথে বুদ্ধিকৌশলে মিসেস পার্ক কে তার শিশু ছেলের প্রাইভেটের জন্য নিজের বোনের চাকরী নিশ্চিত করে ও ফেলে । অবশ্যই বোনের অন্য পরিচয় দিয়ে কিম পরিবারের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয় । এরপরে তারা দুইভাইবোন ষড়যন্ত্র করে একে একে কিম পরিবারে চাকরিরত তাদের ড্রাইভার ও কেয়ারটেকার কেও কাজ থেকে বহিস্কার করে দেয়।

parasite-movie-da-sang-park-study-in-room-scene
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 
এবং সেই জায়গায় দুই ভাই বোনে যথাক্রমে তাদের বাবা মি:কিম ও তাদের মা মিসেস কিম কে চাকরী যোগাড় করে দেয়। এর ফলে দেখা যায় যে পুরো কিম পরিবারের আয়ের উৎস হয়ে দাড়ায় উচ্চবিত্ত পার্ক পরিবার। এভাবেই পরজীবি হয়ে উঠে দরিদ্র কিম পরিবার। কিন্তু কিম পরিবার কি আসলেই পরজীবী ?

parasite-da-sang-park-study-with-ki-jong-scene
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 


এর উত্তরটা দিতে ডিরেক্টর সাহেব অনেক চালাকচতুরি করেছে । সিনেমা যখন শেষ হবে তখন আপনি দ্বিধাদ্বন্দ্ব এর মাঝে পড়ে যাবেন ।

আপাতদৃষ্টিতে আপনার মনে হতে পারে যে ‘কি-উ’ দের গরিব পরিবারই পার্কদের পরিবারের জন্য প্যারাসাইট কিংবা পরজীবি। কিন্তু আসলে সেটা নয়! কেন?

‘কি-উ’ পরিবার নিজেদের ভাগ্য ফেরানোর তাগিদে মিথ্যে অভিনয়, ষড়যন্ত্র , প্রতারণা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ হয়নি তাদের। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও হঠাৎ এক রাতে সব পরিকল্পনায় ব্যাঘাত আসে। সিনেমার শেষদিকে হাজির হয় এক ভয়াবহ টুইস্ট। যা আপনাকে দেখাবে বিন্দু বিন্দু করে জমতে থাকা আক্রোশ, কিভাবে রূপ নিয়ে নেয়ে এক নির্মমতায়।

parasite-korean-movie-Song-Kang-ho-indian-fighting-scene
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 


পরিচালক এমন ভাবে মুভিটি উপস্থাপন করেছেন যে, আপনি এতে প্রথম দিককার কমেডি গুলোয় যেমন বিনোদন পাবেন তেমনই শেষের কিছু কিছু দৃশ্য গুলো মুভি শেষ হওয়ার পরে আপনাকে অবশ্যই ভাবাবে। আপনি মুভিটি শেষ হওয়ার পরে উপলব্ধি করতে পারবেন যে, দেশটা কোরিয়া হলেও এ তো আপনার নিজ দেশেরই বাস্তবিক কাহিনী । এমন কি পৃথিবীর প্রতিটা দেশেরই।

parasite-movie-kim-family-basement-flooded-because-of-rain
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 

যে বৃষ্টি উচ্চবিত্ত পরিবার ড্রয়িং রুমে বসে দেখে উপভোগ করে, সেই একই বৃষ্টি নিম্নবিত্ত লোকেদের জন্য নিয়ে আসে বাচামরার পরিস্থিতি । সেই বৃষ্টিতেই ডুবে যায় নিম্নবিত্তদের ঘরবাড়ী কিংবা বেজমেন্টে থাকা নিম্নবিত্তের পুরো বাসা।

মানুষের এই শ্রেনী-দন্দ্বের ফলে গরিবদের গায়ে থাকা গন্ধ ও অসহ্যকর মনে হয় উচ্চবিত্ত লোকেদের।

parasite-mr-park-bad-smell-scene
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 

এমন কি নিম্নবিত্ত লোকেদের ছোঁয়া কোন বস্তু ধরতেও তারা দ্বিধা করে । আপনি যদি মুভির পোস্টার ভালো করে লক্ষ করেন তাহলে দেখবেন যে, মুভিটির পোস্টারের মাধ্যমেই পরিচালক বুঝিয়ে দিয়েছেন কৃত্রিমতায় তৈরি মানুষের মাঝে এ পার্থক্যকে।

parasite-Korean-movie-poster-bangla
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 

কিন্তু সত্যিকার অর্থে পরজীবি আসলে কারা? যারা নিজেদের সাধারণ চাহিদা পূরণের জন্য কিছুটা লোলুপ তারাই নাকি যারা নিজের নিরাপদ অভিজাত জীবনের বাইরে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব সম্পর্কে এতটাই অজ্ঞ যে অসহায় মানুষের শরিরের সামান্য দুর্গন্ধ তাদের সহ্যের বাইরে তারা?

hollywood movie review in bangla

এরকম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উদ্রেক করেছে এই ফিল্মটি। কোরিয়ান ফিল্মের স্টোরিলাইন,সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে আসলে নতুন করে বলার কিছু নেই। এককথায় অসাধারণ। আর অভিনয়ে প্রধান চরিত্রে আছেন 'Memories of Murder', 'Taxi Driver', 'Sympathy for Mr.Vengeance' খ্যাত অভিনেতা সং কাং হো। অনায়াসেই তাকে কোরিয়ার সেরা দশজন অভিনেতার মধ্যে একজন বলা চলে। এখানেও তার ধারাবাহিকতায় অসাধারণ অভিনয় করেছেন।

parasite-movie-da-sang-senseless-scene
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 


এক নজরে প্যারাসাইট মুভি রিভিউ


Movie Name: Parasite (2019 film)

Movie Premier: 21 May 2019 ( Cannes )

Release Date: 30 May 2019 (South Korea)

Language: Korean / English (একাধিক ভাষায় ডাবিং করা হয়েছে )

Movie Budget: US$11.4 million

Cast: Song Kang-ho , Lee Sun-kyun , Cho Yeo-jeong , Choi Woo-shik , Park So-dam , Lee Jung-eun , Jang Hye-jin

Director: Bong Joon-ho

Producer: Kwak Sin-ae, Moon Yang-kwon এবং Jang Young-hwan এর পাশাপাশি প্যারাসাইট এর ডিরেক্টর Bong Joon-ho নিজেও এই চলচিত্রের প্রযোজনা করেছে ।

Personal Rating: 5 / 5

Reviewer: MD: Ashikur Rahman

Review Date: 11 April 2020

Review Ratings: 4 / 5

Rotten Tomato: Parasite (2019) on Rotten Tomatoes

IMDB: Parasite on IMDb

কোরিয়ান ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘Parasite’ মুভি রিভিউ । প্যারাসাইট একটি আলোর মত অন্ধকার সমাজের গল্প - reviewhax । প্যারাসাইট মুভি রিভিউ

প্যারাসাইট ডাওনলোড লিংক

WIKIPEDIA: Parasite in Wikipedia

parasite-movie-da-sang-park-good-behave-scene
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 


প্যারাসাইট টিভি সিরিজ

ডিরেক্টর Bong Joon-ho এর অধীনে ফেব্রুয়ারিতে প্যারাসাইটের একটি লিমিটেড টিভি সিরিজ তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয় ‘গেম অফ থ্রোন্স’ খ্যাত টিভি চ্যানেল ‘এইচবিও’ এর পক্ষ হতে । এই সিরিজে অভিনয়ের জন্য আভেঞ্জার্স: এন্ডগেমের স্মার্ট হাল্কখ্যাত অভিনেতা মার্ক রাফালো ও Tilda Swinton কে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে ।

প্যারাসাইট মুভি বক্স অফিস কালেকশন রিপোর্ট


১৫ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় Parasite প্রায় $53.48 million ডলার বক্স অফিস কালেকশন করে । এছাড়াও অন্যান্য দেশে আরোও $213.5 million ডলার (যার মধ্যে $71.19 million ডলার শুধুমাত্র South Korea থেকে ) আয় হয়েছে । যার ফলে প্যারাসাইট সিনেমার পুরো বিশ্বব্যাপী বক্স অফিস কালেকশন হয়েছে $266.9 million ডলার ।

# ডমেস্টিক :- $53.48 মিলিয়ন ডলার

★ ওভারসীস :- $213.5 মিলিয়ন ডলার

★ টোটাল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড গ্রোস:- $266.9 মিলিয়ন ডলার

★ মুভি বাজেট:- $11.4 মিলিয়ন ডলার

★ কোরিয়ান মার্কেট কালেকশন:- $71.19 মিলিয়ন ডলার

parasite-movie-sang-park-looking-outside-in-window-scene
(image credit: CJ Entertainment/Neon) 

♥ অস্কার জিতে নিল কোরিয়ার প্যারাসাইট সিনেমাটি ।







কোরিয়ান প্যারাসাইট মুভি রিভিউ

মানুষ সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে, আর তারা সিড়ি বেয়ে বাথরুমে উঠেন।
তারা তাকালে সূর্যের আলো নয়, মানুষের পা দেখতে পান। বাড়ি ঘেঁষে মাতাল লোকেদের হিসু করা দেখতে পান। কিন্তু সামান্যতম প্রতিবাদ করার সাহস তারা পান না। তাদের সবার শরীর থেকে খুবই কটু গন্ধ বের হয়, কেউ কাছে থাকলে নাক চেপে ধরতে হয়। 

সুগন্ধি সাবানও সে গন্ধ মুছে ফেলতে পারেনা। তাই তারা যেখানেই যান, যে পোশাকেই যান, যত সেজেই যান, যতই ধনীদের সাথে মেশেন, তারা তাদের শরীরের কটু গন্ধটাও সাথে করে নিয়ে যান।

কারণ তারা মানুষ নন, তারা গরীব! আর এই কটু বাজে গন্ধের নাম দারিদ্র্যতা।

স্পয়লারবিহীন

আচ্ছা গন্ধ তো অনেক রকম হয়। কিন্তু দারিদ্র্যতারও যে একটা গন্ধ আছে, অন্তত এই মুভি না দেখলে তা জানতে পারতাম না।

🔰তাইতো মুভিটা একটা আলাদা দর্শন। আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

এদিকে মুভিটি দেখতে বসতেই চোখ আঠার মতো লেগে যায়। অন্যের ওয়াইফাই সিগন্যাল পাওয়ার জন্য যেভাবে বাড়ির এদিক সেদিক ঘুরোঘুরি করে, সেভাবে পুরো মুভিটা জুড়ে ক্যামেরার এঙ্গেলেও ধনী-গরিবের বিভেদ ফুটিয়ে তোলে। 

তাইতো ধনী পরিবারের বাসায় ক্যামেরার এঙ্গেল এক রকম থাকে, আবার গরীব পরিবারের বাড়িতে ক্যামেরার এঙ্গেল আরেক রকম থাকে।

এটা আসলে ক্যামেরার এঙ্গেল নয় বরং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ মাত্র। আমরা একটা গরীব পরিবারের দিকে যেভাবে তাকাই, সেভাবে কিন্তু ধনী পরিবারের দিকে তাকাই না।

Director: Bong Joon-ho

যারা আগে থেকেই কোরিয়ান মুভি নিয়মিত দেখতেন, তারা পরিচালকের সাথে পরিচিত ছিলেন। অবশ্য এই মুভির বদৌলতে তাকে আর কেউ চিনতে বাকি নেই।

যাইহোক পরিচালকের কথা বলি, Snowpiercer(2013) মুভিটি নির্মাণের সময় পরিচালকের মাথায় এই মুভির আইডিয়া আসে। তিনি স্মৃতির পাতায় ডুব দেন। ফিরে যান তার ২০ বছর বয়সী জীবন সংগ্রামের সময়ে।

 সেইসময় তিনি একটি ধনী পরিবারে টিউশনি করতেন।
সেই নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি স্ক্রিপ্টের কাজ শুরু করলেন।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এই মুভির জন্মলগ্নে পরিচালক সাহেব মুভি নয়, বরং মঞ্চ নাটক করার কথাই ভেবেছিলেন। চেয়েছিলেন দুটি পরিবারকে ভাগ ভাগ করে মঞ্চ নাটক করবেন।

কিন্তু পরবর্তীতে মঞ্চ নাটক থেকে মুভিতে নিয়ে আসেন। তাই মঞ্চ নাটক শুরু এবং শেষ হবার সময় যেমন ঘন্টা বাজে, তেমনি এই মুভিতেও সেভাবেই ঘন্টা বাজার শব্দ হয়।

এদিকে পরিচালক সাহেব স্ক্রিপ্টের কাজ শেষ করে, মুভির দুই লিড ক্যারেক্টারকে যখন বলেন, Choi Woo-shik, Song Kang-ho এই দুজন স্ক্রিপ্ট না জেনেই পরিচালকের মুভিতে সাইন করেন। কেননা পরিচালকের সাথে তাদের পূর্ববর্তী কাজগুলোর জন্য আলাদা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিলো।

🔰যদিও ভেবেছিলাম এই মুভিটা নিয়ে খুব অল্প করে লিখবো। কিন্তু মুভিটাই এমন, একবার লেখা শুরু করলে থামা কষ্ট।

যাইহোক এবার মুভিতে ফিরে আসি, মুভিতে দুটি পরিবারকে দেখানো হয়।
বাবা, মা, ভাই, বোন মিলে একটি গরীব পরিবার।

আরেকদিকে বাবা, মা, ভাই, বোন মিলে ধনী পরিবার।
আপাতত দৃষ্টিতে দুটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা সমান হলেও তাদের প্রত্যেকের লাইফস্টাইল কিন্তু এক নয়। তাদের সম্মানও এক নয়।

গরীব পরিবার প্রচন্ড লোভী। অনেকটা তেলাপোকার মতন। নোংরা খাবে, নোংরায় জীবন ধারণ করবে কিন্তু ওদের উড়বার সাধও জেগে থাকবে। তাইতো তেলাপোকারা মাঝেমাঝেই উড়ে পাখি হবার সাধ মিটায়।

সে উড়ে চলার মানে ভালো থাকার লোভ যে কতটা নির্লজ্জ তা মুভিটির প্রথমাংশে ফুটে উঠে। কিন্তু তারপর মুভির গল্প ঘুরে যায়। বের হয়ে আসে রহস্য। থ্রিল। বাস্তবতা। পুঁজিবাদ।
সবশেষে প্যারাসাইট।

প্যারাসাইট মানে আমরা অলমোস্ট সবাই জানি যে এর অর্থ পরজীবি। পরজীবি মানে যে অন্য জীবের উপর নির্ভর করে বাঁচে। তার নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই।

তো চোখ বন্ধ করলেই উত্তর আসে এই মুভির পরজীবি হচ্ছে সেই নির্লজ্জ লোভী গরীব পরিবারটি। যারা তেলাপোকার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
তেলাপোকারা নিজের ভালো থাকার স্বার্থে মানুষের অন্তরঙ্গ মুহুর্তেও দিব্যি নিজেদের মতন পড়ে থাকে।

তাদের জীবনে বৃষ্টির পানি অথবা ডাস্টবিনের পানি অথবা নোংরার পানির কোনো পার্থক্য নেই।
যেকোনো পানিতেই তারা অটল থাকে অচিন্ত্যনীয় চিন্তায়। কারণ তাদের জীবন চিন্তায় চলে না।

এদিকে আপনি মুভিটির প্রধান পোস্টারগুলোর কথা চিন্তা করে দেখুন। সেখানে সবার চোখ অন্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু কেন?

আপনি যদি এই "কেন"-এর উত্তরটি বের করে আনতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনি জানেন এই মুভির প্যারাসাইট আসলে কে?

#Parasite(2019)
Disclosure: This post May contains affiliate links that support our Blog. When you purchase something after clicking an affiliate link, we may receive a commission. Also Note That We Are Not Responsible For Any Third-party Websites Link Contents
MD: Ashikur Rahman

আমি একজন মুভি ও সিরিজ লাভার। সুপারহিরো জেনরে আমি মার্ভেল ও ডিসি সকলের তৈরী সিনেমাই পছন্দ করি দেখতে। আমার ব্লগ সাইটঃ www.Tvhex.Com চাইলে আমাকে ফেসবুক ও টুইটারে ফলো করতে পারেন। facebook twitter

Post a Comment

কোন কিছু জানার থাকলে দয়া করে কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করুন।

If you have anything to say, Please Write your Opinion in Comment Section.

Previous Post Next Post